জ্যোতিষ

/জ্যোতিষ

জ্যোতিষ

লিখেছেন ম্যাক্স অয়ন । 

রাত প্রায় দেড়টা।  ঘুমানোর আগে উপুত হয়ে শুয়ে ফেইসবুকের টাইমলাইন চেইক করছিলাম।  হঠাত করে নোটিফিকেশন আসলো, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের।  সুন্দরী নারী।  অদ্ভুত সুন্দরী।  প্রোফাইল পিকচারের ছবিটা দেখলাম কিছুক্ষণ।  টানা টানা চোখ, চোখে কাজল টানা। চুলগুলো একপাশে সিঁথি করা।  ঠোঁটে লিপস্টিক বলে মনে হলো না, লিপজেল বা লিপগ্লোস টাইপের কিছু।
এক বড় ভাই বলেছিলো- সুন্দরীদের না করতে হয় না, করলে অভিশাপ লাগে।  অভিশাপের ভয়েই রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করলাম। কিন্তু আশংকা মনে বুঁদবুঁদ করছিলো, সুন্দরী এমন নারী কেনো আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবে! আমি তো দূরের কথা, আমার বংশের কেউও তাঁকে চেনে না।  রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে চিতল মাছের মতো পরে রইলাম।
১০ মিনিটও যায়নি, মেসেঞ্জারে টুং করে আওয়াজ হলো।  সেই সুন্দরী নারীর মেসেজ- ‘ভালো আছেন তো?’ মেসেজ দেখে নিজেকে প্লানচ্যাটে বসিয়ে দেখলাম- কোনোদিন নিউমার্কেট কিংবা পহেলা বৈশাখের ভীরেও এর সাথে আমার দেখা হয়নি, কথা হওয়া তো মহাকাশের স্যাটেলাইটের সমান।  সাথে সাথে সিন করলে আবার এদের ভাব আকাশের ফানুস হয়ে যায়, আবার না করলেও ‘গোণায় ধরলাম না’ তত্ত্বে মাইনাস! তার প্রোফাইল পিকের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাঁকিয়ে, কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থেকে উত্তর দিলাম- এই তো, আপনি? সে বললো, হ্যাঁ চলছে।  কী চলছে তা আর প্রশ্ন করা গেলো না।
আপনার অনেক মন খারাপ, তাই না?
আপনি কী করে বুঝলেন!
আমি কথা না বাড়িয়ে বললাম- রাতে তো পেটে কিছুই দেননি, পেট ঠান্ডা থাকলে মন খারাপ একটু সহনীয় থাকে।
আমি খাইনি এটা কে বললো আপনাকে?
দুপুরেও তো সকালের খাবার খেয়েছেন, এতো অনিয়ম করলে কেমনে হবে!
আপনি আমাকে চিনেন বা আমার বাসায় কেউ এমন কেউ আছে যে আপনাকে এসব কথা বলেছে?
না, কেউ বলেনি, আমি বললাম।  পাঁচ দিন ধরে স্বামী তো দেশের বাইরে, ঠিক মতো কথাও হচ্ছে না, অথচ আপনি ফোন বাজলেই ভাবছেন, স্বামী করেছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র চারবার কথা হয়েছে।
হোয়াট‍! অ্যাই, অ্যাই, আপনি বলেন তো আপনি কে? কিভাবে সব জানেন? বলেন বলেন, এখুনি বলেন।
আপনার বাচ্চাটার তো গতকাল হালকা জ্বর এসেছিলো, একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেই পারতেন, এখনকার জ্বর তেমন ভালো না।
আমি আর কিছু জানতে চাচ্ছি না, আপনি বলেন আগে, কে আপনি? কে আপনি? হু আর ইউ?
বাচ্চাটা সকালে আইসক্রিম খেতে চাইবে। খেতে দিয়েন না, ঠান্ডা লেগে যাবে।  ফ্রিজে যে দুই বক্স আইসক্রিম আছে, সেটা ডিপে রেখে দেন, যাতে সে খুঁজে না পায়।

Sponsored Ads 

অয়ন সাহেব, আপনি কি আমার টেক্সট পড়ছেন? আমি বলছি- কে আপনি?
আমি অয়ন।  নামটা বড় বোন রেখেছিলো, অবশ্য আব্বা এ নামে ডাকে না। আব্বা ভেবেছিলেন বড় হয়ে আমি বিশাল বড় একজন পদার্থবীদ হবো, হওয়া হয়নি।  পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াই হয়নি।  এসএসসি ইন্টারে পড়েছিলাম।  হা হা হা।
আপনি হাসছেন! আপনি আমার সম্পর্কে কিভাবে এতো কিছু জানেন? আমাকে চিনেন? আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বলেন বলেন এক্ষুণি বলেন।
আপনার অফিসে খালেদ নামে একজন আছে, যে আপনাকে ভীষণ পছন্দ করে, আপনিও তাকে বেশ পাত্তা দেন, এর থেকে একটু দূরে থাকবেন, তার উদ্দেশ্য ভালো না।
খালেদকে আপনি কিভাবে চেনেন? আপনি কে বলেন তো, কে আপনি, কিভাবে সব জানেন?
নাহ! চিনি না।  এখন আপনার স্বামীকে একটা ফোন দিতে পারেন, উনি ফ্রি আছেন এখন।
আপনি কি আমার স্বামীকে চিনেন?
নাহ, দেখিনি কখনো, জানিও না।
তাহলে কিভাবে বলছেন?
কথা শেষ করে আপনার ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত।  আগামীকাল সকালের দিকেই আপনার বাসায় মেহমান আসবে।
হোয়াট! আপনি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন, আমার এসএমএসগুলো পড়তে পারছেন?
টেক্সট কনভার্সেশনে দেখা যায় না, আর মেসেঞ্জারে অন্যের ফোনের এসএমএস পড়া যায় না।
আল্লাহর দোহাই লাগে- বলেন আপনি কে? কিভাবে সব জানেন? বলেন বলেন প্লিজ।
আপনার এখন আপনার স্বামীকে ফোন করা উচিত।
আপনাকে কল দিচ্ছি, ধরেন।
আমি রাতে ফোনে খুব কম কথা বলি।  সো নো কল প্লিজ।
না না না, আমার জানতে হবে কে আপনি, কিভাবে আপনি সব জানেন, আমার জানতে হবে, নইলে আমি দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো।
আপনি উনাকে ফোন করেন, এটা জরুরি।  সম্পর্কে ইগো ভালো কিছু বইয়ে আনে না।
না, আগে আপনার সাথে কথা বলতে হবে।  এন্ড ইট আর্জেন্ট টু মি, রাইট নাও।
আমি চ্যাটিং থেকে বের হয়ে এসে ফোনটা বালিশের পাশেই রেখে উপরে সিলিংফ্যানের দিয়ে তাঁকিয়ে রইলাম।  এদিকে, ফোনে একের পর পর কল বেজেই যাচ্ছে।
Facebook Comments

2019-02-07T04:19:45+00:00

About the Author:

Leave A Comment

Shares