আত্ম কথা – পর্ব ২

/আত্ম কথা – পর্ব ২

আত্ম কথা – পর্ব ২

কদিন রুপার বাসা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম । একি বাসার চার তলায় থাকায় সুদীপ্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলো । আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো । আমি সাইড কেটে চলে আসতে চাইলে আমার রাস্তা আঁটকে দাঁড়ালো ।

তারপর সে বলল আচ্ছা তুমিকি আমাকে ভয় পাও ?
আমি তার দিকে না তাকিয়ে আবার পাশ কেটে চলে যেতে চাইলাম ।
সে আবার রাস্তা আটকে দাঁড়ালো । বলল পালাচ্ছো কেন?
এবার আর বাঁধা মানলাম না । এক দৌড় এ চলে গেলাম ।

বাসায় ফিরে দেখি শাহানা আন্টি এসেছে বাসায় । শাহানা আন্টি আমার খালা রুবার ফ্রেন্ড । সুদিপ্ত দের বাসার একপাশে আমাদের বাসা আর আরেক পাশে শাহানা আন্টির বাসা ।
অনেক মিষ্টি মেয়ে শাহানা । সারাক্ষণ এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ায় । সাবার সাথে তার ভাল সখ্যতা। পুরো পাড়ায় এমন কেও নেই তাকে পছন্দ করে না । ভার্সিটির ২য় বর্ষের ছাত্রী । পড়ালেখায় মোটামোটি হলেও সংস্কৃতি চর্চায় খুব পারদর্শী ।

আমার খুব সখ ইউনিভার্সিটি দেখার । যেহেতু স্কুল এ পড়ি কখনো যাওয়া হয় নি । সেদিন শাহানা আন্টি বলল তোর খুব সখ তো চল কাল আমাদের ভার্সিটি তে কালচারাল প্রোগ্রাম আছে । অনেক ভাল লাগবে গেলে ।
আমিতো এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম । সে কি আনন্দ আমার ।
সকাল এ উঠেই সাজ গোজ করে রেডি ।

ভার্সিটি ধুকতেই শাহানা আন্টির বান্ধবীরা বলে উঠলো আরে এতো দেরি করলি কেনো ? আয় তাড়াতাড়ি আয় এখন সুদীপ্তর গান হবে ।
আমি একটু চমকে গেলাম। সুদীপ্ত!
ও কি আমাদের পাশের বাড়ির সুদীপ্ত?
নাকি অন্য কেউ ?
মনে মনে অপেক্ষা করলাম । দেখি কে ওঠে স্টেজ এ গান গাইতে ।
গান শুরু হতে মনে হচ্ছে আরেকটু দেরি হবে ।
একটা দলীয় নৃত্ত হচ্ছিলো ।

Ads by BEING WOMEN

BEST INTERIOR DESIGN COMPANY IN BANGLADESH

হঠাৎ একটি ছেলে আমাদের কাছে আসলো নাম সোহাগ । এসে
শাহানা আন্টি কে বলল , এই মেয়েটি কে ? শাহানা আন্টি আমার হাত ধরে বলল আমার ফ্রেন্ড এর ভাগ্নি । আমাদের বাসার সাথেই ওদের বাসা । প্রোগ্রাম দেখাতে নিয়ে এলাম । আমি শাহানা আন্টির ফ্রেন্ড হিসেবে ছেলেটিকে সালাম দিলাম । ছেলেটি উত্তর নিলো আর সাথে একটা গোলাপ আমাকে এগিয়ে দিয়ে বলল তুমি অনেক সুন্দর ।
আমি হতভম্বের মত তাকালাম শাহানা আন্টির দিকে ।

শাহানা আন্টি হাহা করে হেঁসে উঠলো । আর ওই ছেলেটি কে বলল আই ফাজিল এসব কি ? ও ছোট মানুষ ওর সাথে মজা নিশ না । ভাগ এখান থেকে । ছেলেটি হাঁসতে হাঁসতে চলে গেলো ।
আমি চুপ হয়ে গেলাম । শাহানা আন্টি এবং তার বান্ধবী রা আমাকে চিয়ার আপ করার চেষ্টা করছিলো ।
হঠাৎ স্টেজ এ সুদীপ্ত উঠলো ।সাথে আরেকটি মেয়ে। ওমা এ তো আমাদের প্রতিবেশী সুদীপ্ত। ও যে শাহানা আন্টির ভার্সিটি তেই পড়ে জানতাম না ।

তুমি আমার প্রথম সকাল
একাকি বিকেল ক্লান্ত দুপুর বেলা
তুমি আমার সারা দিন আমার
তুমি আমার সারা বেলা ………

গানটি এত সুন্দর করে গাইলো সুদীপ্ত এবং তার পারটনার । পুরো অডিয়েন্স জেনো রোম্যান্টিক হয়ে গেলো সাথে সাথেই । তার প্রমান কিছুক্ষনের মধ্যে পেয়ে গেলাম ।
এবার পালা শাহানা আপুর গানের । সে আমাকে রেখে স্টেজ এ চলে গেলো তার সাথে তার দুই বান্ধবীও গেলো ।

আমি একা বসে আছি ।
এরি মধ্যে সোহাগ এসে আমার পাশে এসে বসলো । আমি তাকে দেখে একটু ঘাবড়ে গেলাম । সে বলল আচ্ছা তুমি কোন ক্লাস এ পড়ো ?
আমি বললাম ক্লাস এইট এ ।
ওহ তুমিতো একদম পিচ্চি ।
মানে ?
না মানে ফুলটা যদি আবার দেই নেবে ?
না । ( একটু রাগ দেখিয়ে )
ওরে বাবা !

আমি শক্ত হয়ে বসে আছি ।
এরি মধ্যে শাহানা আপুর গান শুরু হয়ে গেলো ।
সোহাগ বসে আছে চুপ চাপ । ভাব খানা এমন জেনো বেচারা ভীষণ কষ্ট পেয়েছে ।

কিছুক্ষন পর বলল ওকে আপু ভাল থাকো তাহলে যাই । বলে চলে গেলো ।
তখন সত্যি হাঁসি পেলো ।

Ads by BEING WOMEN

BEST INTERIOR DESIGN COMPANY IN BANGLADESH

সোহাগ চলে যাওয়ার পর পর আরেকটি ছেলে আসলো । এসে বলল হায় ! তুমি শাহানার ভাগ্নি রাইট ?
আমি বললাম হ্যাঁ ।
( অনেক লম্বা ছেলেটা তাই মাথা উঁচু করে তাকিয়ে বললাম )
আচ্ছা শোনো ঐযে দেখছো একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ওর নাম রিফাত । ও তোমাকে অনেক ক্ষণ ধরে দেখছে । তোমাকে অনেক পছন্দ করে ফেলেছে । তুমি কি ওর সাথে একটু কথা বলবে ? একটু আসবে ওদিকে ?

আমি এবার আর তার দিকে তাকালাম না । স্টেজ এর দিকে তাকিয়ে বললাম সরি ।
ছেলেটা রিকোয়েস্ট করলো আবার । আমি আর কোন কথা বললাম না। অসম্ভব বিরক্ত লাগছিলো । উঠে স্টেজ এর দিকে চলে গেলাম । যেদিক দিয়ে শাহানা আন্টি গেছে ওদিকে । স্টেজ এর পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম । শাহানা আন্টি কে তখন অল্প অল্প দেখা যাচ্ছিলো ।

কিছুক্ষনের মধ্যে আরেক বেচারা পাগল এসে হাজির । হাতে একটা গোলাপ । এসে বলল এই তুমি এখানে আমি তোমাকে খুজে শেষ ।
আমি বললাম মানে ?
মানে হচ্ছে তোমাকে আমার অনেক ভাল লেগেছে । তোমাকে ভালবাসতে চাই ।

এনাফ ইজ এনাফ । এবার আমি আর নিতে পারলাম না । কেঁদে ফেললাম। ওই ছেলেটা বলে উঠলো আরে আরে তুমি কাদছো কেনো ।বলে আমার আরো কাছে আসতে থাকলো । এমন যেন আমার চোখ মুছে দেবে ।

আমি ভয়ে আরো দূরে যাচ্ছিলাম । হঠাৎ কে জেন ছেলেটিকে পেছন থেকে শার্ট ধরে টান দিয়ে বড় একটা ঘুষি মারলো ।
আমি তখন জাস্ট হতবাক ।
তাকিয়ে দেখলাম এটা আর কেও না সুদীপ্ত ।
তারপর ………চলবে ……………………

Facebook Comments

2017-07-07T08:00:20+00:00

About the Author:

Leave A Comment

Shares