” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৮ )

/” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৮ )

” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৮ )

হা!দোউখানুর কল্যাণে বাড়িটা যেন হাউজ বিউটিফুলের ছবির মত সেজেছে। রসুইখানায় একটু উকি দিয়ে দেখলাম, শুদ্ধ আনাজ গুলো যেন হিরে চুনি পান্নার মত চমকাচ্ছে। থরে থরে সব সাজানো। একটার পর একটা শুধু চুলোয় দিলেই হবে! সন্তুষ্ট হয়ে বিউটি পারলারে ফোন ঘুরালাম। দাওয়াতের আয়োজন না হয় হল কিন্তু ফৌজির সাথে যে শর্তটা হয়েছে সেটাও তো ফেলে দেওয়া যায় না! বছর দশেক আগের বাঁধা বিউটিশিয়ান প্রতিমাকেই খবর দিয়েছি।ও ঠিক আমার বয়স ১৫ বছর কমিয়ে ফেলবে। আসলে আমণ্ত্রিতদের মধ্যে সুন্দরী মহিলাদের ভিড়ে নিজেকে যাতে হারিয়ে না ফেলি তারজন্যই এই প্রচেষ্টা, তার উপর আবার পরী বিষয়ক মণ্ত্রিও আসছেন যিনি নাকি আমারই বয়সী।

সন্ধ্যা সাতটা। দাওয়াতের আয়োজন প্রায় সব শেষ। বাড়ির মেইন গেট পর্যন্ত ফুলে ফুলে সেজেছে বাড়িটা। কোহেকাফ থেকে আনা কিছু ফুল, অন্য ফুলগুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু অপার্থিব সুবাসটুকু যাতে পাওয়া যায়।
আবিদের হুজুর মামা এসে পড়েছেন। কথাই ছিল উনি আগে আসবেন এবং আগেই বিদায় নেবেন। ওনার সাথে বসে কথা বলছি আমরা সবাই। দোউখানু জর্জ ক্লুনির বেশে এখনও এসে পৌঁছায় নাই। হুজুর মামা একটু উশখুশ করছেন। রান্না ঘরের জিম্মায় এখন রহিমা, হুজুর মামার খাবার পরিবেশনে ব্যাস্ত।
-‘আফা,আমার একটু অভিমান হয়েছে।এতকিছু ঘটে গেল আর আপনি আমাকে কিছু জানালেন না!’
-‘আপনি তো প্রথম দিনেই জেনে ফেলেছিলেন ইমাম ভাই!’
-‘জ্বি তা জেনে ফেলেছিলাম! আপনি তো জানেন আপনাদের সুরক্ষার জন্য দোউখানুর জাত ভাইদের প্রায়ই আমি পাঠাই আর পরের দিন দোউখানু নিজেই আমার সাথে দেখা করেছে। ছেলেটা ভালো তবে একটা অপরাধ সে অবশ্যই করেছে । বিলকিস বেগমের সাথে আশনাই করাটা তার ঠিক হয় নাই! এর জন্য কিঞ্চিৎ শাস্তি তার প্রাপ্য।’
-‘মাফ করে দেন ইমাম ভাই! ছেলেটা বিলকিস বেগমকে নির্ভেজাল ভাবে ভালবাসে, আর বিলকিস বেগম তো অনেক আগেই মারা গিয়েছেন।’
-‘তাও ঠিক! কিন্তু শুনলাম আরও দু’জন পরী নাকি এই দাওয়াতে আমণ্ত্রিত! আমি তো বেশিক্ষণ থাকতে পারব না, আপনি আমার ভাগিনেয়র দিকে খেয়াল রাখবেন। আর একটা কথা, যদিও উনি আমার মুরুব্বি, তারপরও বলছি পরী বিষয়ক মণ্ত্রি থেকে আমার ফৌজি দুলাভাইকে সরিয়ে রাখবেন।’
মুখ গোমড়া করে বললাম,’ পরীতে উনি আগ্রহী হবেন না! উনি বিলকিস বেগমে মত্ত!’
ইমাম ভাই হেসে ফেললেন।
-‘তা ঠিক বিলকিস বেগমের তুলনা হয় না! আহা কি অতুলনীয় রূপ!’
-‘রূপের কথা থাক ইমাম ভাই! আপনি বরং বাড়ি গিয়ে ভাবির রূপের প্রতি মনোযোগী হন! বড়বোন হিসেবে এটা আমার উপদেশ!’
-‘জ্বি আপা,আপনি যা বললেন তাই হবে!’ আহারে মনোযোগী হলেন উনি এবং প্রশংসা করতে বাধ্য হলেন।
এমনি সময় সদর দরজার ঘন্টিটা বেজে উঠল। আবিদ দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিয়েছে। একটু পরেই জর্জ ক্লুনিকে দেখতে পেলাম । বুঝ্লাম দোউখানু চলে এসেছে ।জ্বিন হুজুর মামা নিচু গলায় বললেন,’ ব্যাটা বাবুর্চি ভোল পাল্টেছে দেখছি!’ আমি বললাম, ‘সাবধান,ও এখন আবিদের বন্ধু। আপনার ভাগিনেয় সম্পর্কীয়!’
মুখটা একটু বিরস করে জ্বিন হুজুর মামা জবাব দিলেন,’ঠিক আছে!’
তবে একটা কটমটে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিতে দ্বিধা করলেন না।ভাবখানা-কিছু ওলট পালট করছো কি মরেছো! দোউখানুর দৃষ্টিতেও যেন অনুনয় ফুঁটে উঠলো! আবিদ বলল,’আমার বন্ধু জর্জ… না না কোহেকাফ…’
ঠিক তখুনি সদর দরজা খুলে গেল, প্রায় দৌঁড়ে বিশালদেহী ফজলুর প্রবেশ।সারা শরীর ঘামে ভিজে সপ সপ করছে!
-‘ম্যাডাম! …’
কেঁদে ফেলেছে ফজলু!
নিচে মেইন গেটের সামনে অতিথিদের পথ দেখানোর জন্য দাঁড়িয়ে ছিল ফজলু।
-‘কি হয়েছে ফজলু?’
জর্জ ক্লুনি রূপী দোউখানুর দিকে ইশারা করে ফজলু যা বলল তা হল এই রকম-‘ম্যাডাম, আমি এই ভদ্রলোককে ওনার পরিচয় জিগ্গাসা করেছিলাম…কিন্তু উনি…’
আবারও কেঁদে ফেলেছে ফজলু!
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল -‘আমি ওনার পরিচয় জিগ্গাসা করেছিলাম । উনি আমাকে খুবই খারাপ কিছু কথা বললেন!’
এবার জ্বিন হুজুর মামা মুখ খুললেন।
-‘তুমি নিশ্চয় আরও কিছু বলেছিলে ফজলু! সত্য কথা বল!’
-‘জ্বি হুজুর, আমি বলেছিলাম -আপনি কার কাছে এসেছেন? আপনি কি রহিমার সাথে দেখা করতে এসেছেন? তাহলে জেনে রাখেন আমি রহিমার স্বামী!এক ঘুসিতে আপনাকে ভর্তা বানায় দিব!’
উত্তরে উনি বললেন,’অত্যাচারী সন্দেহপ্রবণ স্বামী! পুরুষ জাতির কলংক! তোমার সন্দেহ আমি তোমার পশ্চাৎদেশ দিয়ে …আর বলতে পারব না ম্যাডাম! তারপর দেখলাম লাল দুইটা চোখ! একটু পর দেখলাম আমি ওই কমবয়সী কৃষ্ণচূড়া গাছটার ঠিক মাঝখানে বসে আছি! গাছটা আমার ভার সইতে না পেরে এপাশ ওপাশ দুলছে!’
-‘তারপর।’
-‘একটা লোক উলু খাগড়ার একটা বোঝা মাথায় করে যাচ্ছিল, কাকুতি মিনতি করে ওকে বললাম খড়গুলো গাছের তলে পেতে দিতে।আমি খড়ের গ্যাদার উপর ঝাঁপ দিয়ে পড়লাম। ম্যাডাম আমি আর চাকুরি করব না!’
-‘কেন!’

Sponsored Ads 

-‘আমার ড্রেসটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে…’ চোখের কোণায় ধরা পড়ল আবিদ ওর ফোনটা নিয়ে ঘাটতে শুরু করেছে।
-‘কি খ্ঁজছো আবিদ?
-‘পশ্চাৎদেশ কথাটার মানে।’
সবাই ফিক করে হেসে ফেলেছে!এমনকি রহিমাও!
-‘আবিদ,মানেটা পরে দেখো,এখন ওর কাপড়ের বন্দবস্ত কর।দেখ তোমার বাবার ক্লসেটে কিছু পাও কিনা!’
ফৌজী তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়েছে। -‘না,না, আমি যাচ্ছি। আমার লিভাইসের জিন্স আর ক্রিশ্চিনডিওরের সার্টগুলো বাঁচাই।আবিদ ওগুলোই বেছে বের করে দেবে…!’
-‘ফজলু, আবিদের এই বন্ধুর নাম ‘কোহেকাফ’,আর উনি বাংলা বলতে পারেন না! তুমি ভুল দেখেছো!’
-‘কিন্তু আমি গাছে চড়লাম কি করে!’
জ্বিন হুজুর বললেন, ‘তুমি হয়ত জ্বিন দেখেছো, এস তোমাকে একটু দোয়া পড়ে দেই!’
দোয়া পড়া শেষ হতেই দেখি ফৌজি ফুলেল একটা লিনেনের সার্ট আর রং চটা জিন্স নিয়ে এসেছে,হাঁটুর কাছটা আবার ছেঁড়া। ভালোই হল আমার বড় বোন আসলে সারাটা সময় ফজলুকে বকেই পার করবে! দোউখানু সংক্রাণ্ত অসংগতি চোখে পড়বে না! এই ভদ্রমহিলাকে আমি যথেষ্ট ভয় পাই। ফজলুকে আবারও অতিথিদের পথ দেখানোর কাজে পাঠিয়ে দিলাম। জ্বিন হুজুর মামাও বিদায় নিলেন। রহিমা ফজলুর অপদস্ততায় খুশী হয়ে রান্নাঘরে ফিরে গিয়েছে। এবার দোউখানুকে জেরার পালা।
-‘দোউখানু,পশ্চাৎদেশ জাতীয় অশ্লীল কথা তুমি কোথা থেকে শিখেছো?’
-‘ম্যাডাম, আমার হতে পারত শাশুড়ী আম্মা সন্দেশজাদী এই শব্দটা প্রায়ই উচ্চারণ করতেন। আপনি তো জানেন যে ওনার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন।উনি প্রায়ই ওনার স্বামীকে বলতেন- আমি আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আপনার পশ্চাৎদেশ দিয়ে.…’
ফৌজি আতংকিত হয়ে বলে উঠল, ‘কি সাংঘাতিক! আমার স্ত্রী হলেন সন্দেশজাদীর সাক্ষাৎ বংশধর!’
সন্দেশজাদীর অশালীন বাচন ভঙ্গী আমাকে বেশ লজ্জিত করে তুলেছে!
-‘ম্যাডাম,আজকে আপনাকে দেখতে ঠিক সন্দেশজাদীর মত লাগছে। সন্দেশজাদী আম্মাও সোনালি রঙ পরতে ভালবাসাতেন!’ নাহ,সব কিছু যেন হাতের মুঠি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে…!
-‘আবিদ দোউখানুকে বলে দাও ভোজসভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও শুধু একটা কথাই বলতে পারবে সেটা হল কোহেকাফ- নাম, দেশ কর্মস্থল সব কিছুর উত্তরে ওই কোহেকাফ! ‘
-‘কিন্তু আম্মু এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হবে!’
-‘তোমার বন্ধু,তোমার সমস্যা আবিদ।’
আবিদকে গজ গজ করতে শুনলাম।
-‘এই জন্য কারও উপকার করতে নাই! গতকালকের দু’লক্ষ টাকা বেমালুম খেয়ে ফেলেছে!’
-‘না,খেয়ে ফেলিনি, দু’লক্ষ টাকা দিয়ে তুমি দোউখানু,আর ওই তরুণী পরীর ডিনার কুপন কিনেছো আবিদ!’
-‘তোমার বক্তব্য পশ্চাৎদেশ জাতীয় অশ্লীল শব্দের চেয়েও খারাপ আম্মু! যথার্থই তুমি সন্দেশজাদীর বংশধর!’
ফিক করে হেসে ফেললাম!
-‘এখন তোমরা তৈরী হয়ে যাও বাকি অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য আর অমনি সদর ঘন্টি বাজলো! এবার দরজা খুললেন ফৌজী। আমার বড় বোনের আবির্ভাব। পিছনে করুণ মুখে ফজলু।
বড় সড় একটা ধামাকার মুখে পড়লে ফৌজী।
-‘ফজলুকে এরকম সং সাজিয়েছে কে? নিশ্চয় তুমি?’
আমরা সবাই দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে, ফৌজী ধমক কাচ্ছে! নিঃশব্দে মাথা নাড়ালো ফৌজী।
-‘ওকে একটা সাদা সার্ট দাও!’
-‘আমাকে মাফ করবেন আপামনি। ফজলু আজ এই সার্টটাই পরবে।’ ফৌজির অতি নির্ভীক উত্তর।
-‘অ! কিন্তু কেন?’
-‘কারণ,আজ থেকে একত্রিশ বছর আগে আপনি আমাকে বালক ভেবে এই সার্টটা উপহার দিরেছিলেন এবং আমি ওটা আপনাকে দেখানোর জন্য পরতে বাধ্য হয়েছিলাম!’
-‘ অ!কিন্তু কেন আমি এই ধরণের অদ্ভূত সার্ট উপহার দিয়েছিলাম? তোমাকে কি কোনো শাস্তি স্বরুপ এই সার্ট পরতে বলেছিলাম? নাহ! তা তো হতে পারে না। আমি তখনও আমার শিক্ষকতা জীবন শুরু করিনি!’
-‘না আপনার অতি সহজ সরল কূটকাঁচালী প্রায় বালিকা বোন মানে আমার স্ত্রী আপনাকে এই সার্ট কেনার পরামর্শ দিয়েছিলো! আপনি জানতেন আপনার উর্বর মস্তিষ্কা বোনটির স্বভাব তারপরও আপনি এই সার্টটা আমাকে উপহার দেন এবং পরতে বলেন!
আপনি যাতে আমার সেই সময়কার মনোকষ্টটা অনুভব করতে পারেন সেই জন্যই ফজলু আজ এই সার্টটা পরবে!’
-‘কিন্তু ফজলু এই দূর্ভোগ পোহাবে কেন? দোষ আমার বোনের!’
-‘এই সার্টটা পরে ফজলু বেশ আনন্দিত এবং আমিও আনন্দিত যে আপনারা দুই বোনই ফজলুর দিকে তাকালে দৃষ্টি পীড়ায় ভুগবেন।
বড় বোনের অগ্নিদৃষ্টি অনুভব করে ধীরে ধীরে পিছু হটছি, পারলাম না। দোউখানু অস্ফুটে ‘বিলকিস বেগম! শাহজাদী!’ বলতে বলতে সামনে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে আর আবিদ প্রাণ পণে দোউখানুকে পিছনে ঠেলছে।
শিক্ষকতার কারণে পিঁপড়ের পদচারণার শব্দও ওনার কর্ণকূহরে প্রবেশ করে আর দোউখানুর অস্ফুটে উচ্চারিত বিলকিস বেগম উনি শুনবে না এটা বলাই বাহুল্য!
আপামনির প্রথম প্রশ্ন, ‘জর্জ ক্লুনির মত লোকটা কে?’
সবার পিছন থেকে গলা বাড়িয়ে উত্তর দিলাম,’আবিদের বন্ধু।’
-‘আবিদের বাবার বন্ধু হলেই মানাতো ভালো! কিন্তু এই লোকটা বিলকিস বেগম বলছে কেন? এই লোক জানল কি করে বিলকিস বেগমের কথা?’ আমার দিকে চোখ পাকিয়ে প্রশ্ন করলেন উনি।
-‘ওহ!তুমি দেখতে প্রায় বিলকিস বেগমের মত কিনা তাই… আর উনি বিলকিস বেগমের পেইন্টিংটা দেখেছেন তো তাই.…’
রূপের প্রশংসায় মনে হল একটু খুশী হলেন।
-‘অ!আমি ভুলে গিয়েছিলাম তুমি বিলকিস বেগমের পেইন্টিংটা নিয়ে এসেছো! তা আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব দোর গোড়ায়! চল,দেখি গিয়ে তোমার নতুন বাবুর্চি কি কি রাঁধলো!’
দোউখানু দাঁত কেলিয়ে এগিয়ে আসতে যাচ্ছিলো, আমি বললাম,’কোহেকাফ!’
-‘কোহেকাফ কে?’
উফ! একটা কথাও কান থেকে টপকে পড়ে না!
-‘আবিদের বন্ধুর নাম। এস ভিতরে যাই।’ ফৌজিকে বললাম, ‘ তুমি আপামনিকে সামলাও, আমি দোউখানুকে একটু সবক দিয়ে আসি! ‘
দোউখানুকে আবিদ ওর ঘরে নিয়ে গিয়েছে। আবিদের ঘরে ঢুকে দেখি দোউখানু কাঁদছে আর আবিদের চোখও ছলোছলো।
-‘দোউখানু! উনি বিলকিস বেগম নন! বংশগত কারণে উনি বিলকিস বেগমের মত দেখতে। তুমি যদি ওনার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকো তাহলে উনি তোমার চোখ গেলে দিতে দ্বিধা করবেন না! যথেষ্ট ধার্মিকা মহিলা।পর পুরুষের দৃষ্টি উনি একদমই পছন্দ করেন না। আমার মনে হয় ওনার স্বামীও যদি ওনার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকেন সেটাও উনি পছন্দ করবেন না! সুতরাং সাবধান!’ আবিদ বলল,’আমি আমার খালু আব্বার ব্যাথায় ব্যাথিত!’
-‘আবিদ!নিজের সমস্যা নিয়ে ভাব! পরী অতিথিদের আসার সময় হয়ে গেলো।’
ওদিকে বেশ হট্টগোলের শব্দ পাচ্ছি।যাই দেখি ওদিকে কারা আসলেন।জন গোমেজ কি চলে এসেছেন! জনের কথা শুনতে পাচ্ছি যেন! আবিদের ঘর থেকে বেরিয়েই জনের দেখা পেলাম।
-‘কেমন আছেন জন?’
বিশ বছর আগের সেই মোহিনী হাসিটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলাম।
-‘অনেক দিন পর দেখা হল আপনার সাথে। আপনার শাড়ির রঙটা খুব সুন্দর। আনার খুব পছন্দের।’
-‘আমি জানি জন!’
বলার ধরণটা খানিকটা প্রশ্রয় সুলভ। মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে একটু ঘাড় ফেরাতেই ফৌজির চোখে কৌতুক,তারপর কটমটে চাহনি অবশেষে অনুনয় দেখতে পেলাম।দ্বারঘন্টির শব্দে দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম ।ওদিকে আবিদও এগিয়ে এসেছে কিন্তু বিজয়ী হল ফৌজী।দরজা খুলতেই অপূর্ব একটা সুগন্ধে চারিদিক ভরে গেল! দুই পরীর আগ মন ঘটেছে। কোহেকাফ অর্থাৎ দোউখানু আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল ক্যারোলিনা ইলতুতমিশ আর পরী বিষয়ক মণ্ত্রি সুলতানা সেগুফ্তা আব্রাহামের সাথে।পরী বিষয়ক মণ্ত্রি বাস্তবিক অর্থেই একজন সুলতানা। নাকের গত হন দেখেই বোঝা যাচ্ছে যথেষ্ট উন্যাসিক উনি তবে আভিজাত্যের কারণে বিনয় প্রকাশে উনি কার্পণ্য করলেন না ।

চলবে ……………সবগুলো পর্ব এখানে পাওয়া যাবে    

ম্যাগাজিন এ লিখতে  এখানে রেজিস্ট্রেশন করুন   

আরো গল্প  পড়তে  এখানে ক্লিক করুন 

Sponsored Ads

লাইক করুন , কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন ।

Facebook Comments

2019-02-12T09:14:05+00:00

About the Author:

Leave A Comment

Shares