” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৯ )

/” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৯ )

” ঘড়া ” একটি জ্বীন এর গল্প ( পর্ব ৯ )

বিদ গিলে করা পান্জাবী আর চুড়িদার পরে বেশ একটা সাবেকী বেশ নিয়েছে। ক্যারোলিনার আশে পাশে ফড়িঙের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্যারোলিনা আবিদের সাথে আলাপচারিতায় আগ্রহী হলেও বিশেষ সুযোগ পাচ্ছে না ফৌজির বাল্যকালের বন্ধু রশিদ মৃধার জন্য।
রশিদ পত্নী ইতিমধ্যেই আমার কাছে একবার মৃদু অনুযোগ করে ফেলেছে। আমি ওকে নিশ্চিন্ত থাকতে বলেছি, কারণ বুড়ো রশিদ মৃধার পক্ষে আবিদকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব নয়।
আরও বললাম, ‘শামীম, (রশিদ পত্নী) তুমি তো জানোই আবিদের ট্রেনিং ফৌজী আর রশিদ মৃধার হাতে। ওরা নিজের হাতে ফ্রান্কেস্টাইন তৈরী করেছে, মৃধার সুযোগ প্রায় জিরো পার্সেন্ট। তুমি বরংপরী মণ্ত্রির দিকে একটু খেয়াল রাখো। আমার মত প্রায় বৃদ্ধা হলেও উনি জৌলুস হারান নাই। ওহ! আরও আছে, দেওয়ালের ওই তৈলচিত্রটা থেকে সাবধান । ভদ্রমহিলা তৈলচিত্রের ভিতর থেকেও পুরুষের বাহাত্তর ঘন্টার নিদ্রা হরণে বিশেষ পারদর্শী!’
শামীম মৃধা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে পরী মণ্ত্রির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো, তবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো বিলকিস বেগমের দিকে। ভাবখানা যেন এক ঢিলে দুই পাখি মারবে!
শামিমের সমস্যার সাময়িক সমাধান করে একটু ঘাড় ফিরিয়েছি, কানে এলো আবিদ আর রশিদ মৃধার কথোপকথন।
-‘ভাতিজা! এবার তোমার গুরু দক্ষিণা দেওয়ার পালা!’
-‘জ্বি চাচা আমি প্রস্তুত।’
-‘ভাতিজা, ইলতুতমিশের মঞ্চ থেকে তুমি সরে দাঁড়াও। মাত্র আধা ঘন্টার জন্য!’
-‘নিশ্চয় চাচা, তবে আপনার শিষ্যের শিক্ষার অগ্রগতির পরীক্ষা কিন্তু আপনি এখনও নেন নাই। আসুন মঞ্চে আমরা দু’জনেই থাকি। দেখি গুরুর যোগ্য শিষ্য হতে পেরেছি কিনা!’
আহ! পুত্রকে নিয়ে গর্ব বোধ করলাম!
আবিদের সাথে চোখাচোখি হতেই একটা বাণবর্ষী দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলাম! আবিদ ইশারায় নিশ্চিত করলো আমাকে অর্থাৎ ওকে নিয়েও চিন্তার কারণ নেই!

রণে ভঙ্গ দিয়ে রশিদ মৃধা সামনে এগিয়ে গেলো । পরী বিষয়ক মণ্ত্রির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভদ্রমহিলার সাথে সামান্য কথোপকথন চালালো। পরী মণ্ত্রি যথার্থই একজন সুলতানা। সৌজন্যের কার্পণ্য করলেন না উনি। তারপর, পাশে দাঁড়ানো শামীম মৃধার রূপের প্রশংসায় মেতে উঠলেন। বুঝ্লাম অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী এই সুলতানা!

অনেক সময় নষ্ট করেছি রশিদ দম্পতিকে সামাল দিতে । এবার অনান্য অতিথিদের দিকে নজর দিতে হবে।
আমার শশুড়কূলের লোকজনেরা এসে পড়েছেন আর ওদের সাথে আধা সাহেব আর পারিবারিক বন্ধু আকবর মতিন।
প্লাবনের আগমন যেন সবার দৃষ্টির উৎস হয়ে উঠেছে।
প্লাবন এই বাড়িতে সবার প্রিয়, বিশেষ করে ফৌজীর। নিজের ছোট বোনের মত ভালবাসে প্লাবনকে ফৌজী।
এদিকে আমার বড় বোনও সৌজন্য দেখাতে আমার শাশুড়ীদ্বয় আর নীলাম্বু সাহেবের মাকে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে গেলেন। যাক! আপামনি আমার পূর্ব অপকর্মের কারণে অসন্তুষ্ট থাকলেও কুটুম বাড়ির প্রতি সৌজন্যে কার্পণ্য করলেন না।আর করবেনই বা কেন! হাজার হোক আমরা সন্দেশজাদীর বংশধর!
প্রায় সবাই চলে এসেছে।
সত্তুরে তিন বয়োজ্যেষ্ঠার সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
প্রায় সবাই সবার চেনা, একমাত্র দোউখানু আর তার পরী সগ্ঙিনীরা ছাড়া।
অবশেষে দোউখানু আর দু পরীর পালা চলে এলো।
কাউকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে ওদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের হালটা আমি হাতে নিলাম। আসলে কারো উপর ভরসা করতে পারছিলাম না।
-‘ইনি কোহেকাফ। আবিদের বন্ধু । কোহেকাফের পাশের জন ক্যারোলিনা কামার ইলতুতমিশ। কোহেকাফের হোটেলের প্রধানা শেফ।
সুলতানাকে দেখিয়ে বললাম, ‘ ইনি সুলতানা সেগুফ্তা আব্রাহাম। কোহেকাফের হোটেলের প্রাশাসনিক অধিকত্রী। কোহেকাফ, একটি পাঁচতারা হোটেলের মালিক।’

Sponsored Ads 

-‘ওহ! পরিচিত হয়ে খুশী হলাম জনাব কোহেকাফ। কি নাম আপনার হোটেলের? ‘
মতিনের বেশ আগ্রহী প্রশ্ন।
দোউখানুর উত্তর, ‘কোহেকাফ।’
-‘ওহ! আপনার নামেই তাহলে নাম। ওটা কোথায় যেন?’ মতিনের দ্বিধান্বিত প্রশ্ন।’
আবারও একই উত্তর দিল দোউখানু, ‘কোহেকাফ।’

এবার আমার শাশুড়ীর প্রশ্ন, ‘ কিন্তু কোহেকাফ তো পৃথিবীর কোনো জায়্গা না! আমার জানা মতে ওটা জ্বিন পরীদের বাসস্থান!’
যাহ! গেলো বোধ হয় গুমোর ফাঁক হয়ে!
না,সামলে নিয়েছেন সুলতানা।
-‘জায়গাটার মালিক আমাদের হোটেল মালিক জনাব কোহেকাফ, তাই ওই জায়গার নামও কোহেকাফ।’ সবাই মাথা নেড়ে সায় দিল।বেশি প্রশ্ন করাটা সমীচীন মনে করলো না।হাজার হোক আবিদের বন্ধু।
সমস্যাটা সামলে ফেলেছি ভেবে একটু উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম, কিন্তু প্লাবনের চোখে ফন্দি আঁটার হাসি দেখে আবারও প্রমাদ গুনলাম ! তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম, ‘মতিন, আপনি আমার হয়ে একটু মেহমানদারী করুন । আপনি নীলাম্বু সাহেবের সুবিধা অসুবিধার দিকে একটু খেয়াল রাখেন ।’
প্লাবনকে উদ্দেশ্য করে বললাম, ‘প্লাবন, তুমি কি আমাকে একটু সাহায্য করবে?’
-‘ভাবি, আমার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল তোমাকে সাহায্য করার কিন্তু আমি কোহেকাফ সাহেবের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য বেশ উৎসাহ বোধ করছি!’
নীলাম্বু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আর আমার চোখ দু’টো আবারও কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার পরি কল্পনা করছে।
মতিনের দিকে তাকালাম । মতিনের নীরব চোখ যেন বলছে, ‘ভাবি,তোমার ননদ পৃথিবীর সব চাইতে আনপ্রেডিক্টেবল প্রানী!’
নাহ ! আবারও সামাল দিতে হবে! আমি, ফৌজী আর আবিদের মধ্যে নীরবে সামাল সামাল রব উঠেছে।
ফৌজীর মৃদু অথচ শান্ত গলা শুনতে পেলাম।
-‘কোহেকাফ, আপনি কি বিলকিস বেগমের পেইন্টিংটা দেখেছেন? আপনি যেখানে বসেছেন, ঠিক তার উল্টো দিকের দেয়ালে রয়েছে ওটা।আমার মনে হয় পেইন্টিংটা আপনার পছন্দ হবে।’
আবিদ বলল, ‘পছন্দ হতে বাধ্য! ভাই কোহেকাফ একটু তাকিয়ে দেখ!’
আর সময় দেওয়া চলবে না কাউকে! সবাই যদি পেইন্টিংটার দিকে ঘুরে তাকায় তাহলে আমার ভোজ সভা বরবাদ!
প্লাবনকে নিয়ে পারা গেলো না! এখানেও নীলাম্বুকে এড়ানোর চেষ্টা! অনেক হয়েছে! এবার তোমার ভরং গুলো ছাড়ো! নীলাম্বুকে তুমি এখনও ভালবাস এটা আমরা বেশ জানি!

-‘এবার তাহলে খাবার পালা শুরু করা যাক।’ সবাইকে সাদোর আহ্বান জানালাম।
-‘অ বউমা,একটু এদিকে এস তো!’
দোয়া ইউনুস পড়তে পড়তে শাশুড়ী মাতার দিকে এগিয়ে গেলাম!
-‘আমার যেন কেমন কেমন ঠেকছে, কোহেকাফ নামটা তো সুবিধের নয়!’
-‘কি জানি মা! আজকালকার ছেলে পেলে, মতি বোঝা ভার!’
সব প্রায় সামাল দিয়ে ফেলেছিলাম, কিন্তু প্লাবনের মতিগতি বিশেষ সুবিধের মনে হচ্ছে না। নীলাম্বুকে কি একটু সতর্ক করা প্রয়োজন? নাহ থাক!

যোধা বাই এর ভোজনশালা থেকেও সুন্দর করে সাজানো হয়েছে আমার এই ডাইনিং হলটা।
ওই কোণে সাজানো সাত স্তরের নানা রঙের ফ্রুট স্যালাডগুলো রামধনুর রঙ ছড়াচ্ছে। আর এক পাশে স্বচ্ছ ডিকেন্টারে সাজানো রয়েছে ফ্রুট জুস। মোরগ মুসাল্লামের মোরগগুলো যেন একগুচ্ছ যুইঁ ফুলের উপর পদ্ম! নও রতন পোলাও যেন ঝিনুকের ডালায় নয় লহরীর হিরে চুনি পান্নার গলার মালা।কমলা পোলাও এর দিকে তাকালে মনে হচ্ছে ওখানে কমলা রঙা গোধূলী লুকোচুরি খেলছে! শুদ্ধ বাসমতির সুগন্ধে, ফুলের গন্ধও চাপা পড়ে যাচ্ছে! সবুজ পেস্তা ঢাকা স্ফটিক সাদা পরমান্ন যেন রূপের পেখম মেলেছে!
অবশেষে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো খাদ্য সম্ভারে। আমরা তিন জন তদারকিতে ব্যাস্ত।
প্লাবন তার সংকল্প ছাড়ে নাই।নানা ভাবে কোহেকাফের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।
অবশেষে প্লাবন জয়ী হল, আর তৈলচিত্রের বিলকিস বেগমের সাময়িক হার হল ।
নীলাম্বুর চোখের দিকে চোখ পড়তেই মনটা মোচড় দিয়ে উঠলো।চোখ দুটোতে যেন ভারী মেঘ থই থই করছে । সবার কথা জবাব মাথা নেড়ে উত্তর দিচ্ছে, কথা বলতে চাইছে না।
নীলাম্বুর দিকে এগিয়ে গেলাম। একটা চেয়ার টেনে ওর পাশে বসে পড়েছি। নিচু গলায় ওর সাথে কথা বলছি।
-‘নীলাম্বু, তুমি মিছেই মন খারাপ করছো! তুমি খুব ভালো করেই জানো প্লাবনের মনে তুমি ছাড়া আর কারো স্থান নেই।ও যা করছে, ওগুলো ওর ছেলেমানুষি আর এত দিনের জমে থাকা অভিমান। আর একটু সহ্য কর।’
ফিক করে হেসে আবারও বললাম, ‘ পাশার ছক বদলের সময় চলে এসেছে।’
প্লাবনের গলা শুনতে পাচ্ছি।
-‘ভাবি তুমি যে একজনকে নিয়েই ব্যাস্ত হয়ে পড়লে! অন্য অতিথিদের দিকে একটু নজর দাও!’
অসম্ভব ভাবে প্রগল্ভ হয়ে উঠেছে প্লাবন আজ!
-‘প্লাবন, অন্যদের জন্য তুমি আছো। তুমি এই বাড়ির মেয়ে। আমি বরং আজকের প্রধান অতিথির যত্ন নেই।তুমি নিজেও জানো দু’দিন পরে হলেও একটা আত্মীয়্তার সম্পর্ক গড়ে উঠতে যাচ্ছে এবং আমাদের রীতি অনুযায়ী এই ধরণের আত্মীয়দের যথেষ্ট সম্মান করতে হয়।’
আবিদকে নির্দেশ দিলাম নীলা খালাকে সঙ্গ দিতে।
-‘ওহ!’
প্লাবন খুব ছোট করে উত্তর দিয়ে আবারও মেতে উঠল কোহেকাফের সাথে।
দোউখানু কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পেরেছে ব্যাপারটা।
আমি আবারও বললাম, ‘ক্কোহেকাফ, আপনি বরং আমাদের ঐতিহ্যবাহী পেইন্টিংটার দিকে নজর দিন।
দোউখানু বাধ্য ছেলের মত বিলকিস বেগমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
প্লাবন সমস্যার সমাধান করে পরী মণ্ত্রির পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। টেবিলের উল্টো দিকে ফৌজী দাঁড়ানো। অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। পরী মণ্ত্রির মুখে হালকা হাসি।
উনি আমাকে অনুরোধ করলেন ওনার সাথে একান্তে কথা বলতে ।

সবার কাছে বিনম্র মাফ চেয়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন । বাধ্য হয়ে পরী মণ্ত্রিকে নিয়ে পাশের ঘরে গেলাম কিন্তু যেতে যেতে অনুভব করলাম সবার বিষ্মিত দৃষ্টি।
পাশের ঘরে এসে মণ্ত্রি আর আমার মাঝের কথোপকথনোটা হল এই রকম –
-‘প্লাবন কি দোউখানুকে নিয়ে খেলছে না?’
-‘দোউখানু দুগ্ধ পোষ্য শিশু নয়! আর আপনি ভালো করেই জানেন দোউখানু বিলকিস বেগমে আসক্ত। সুতরাং দোউখানুও খেলছে।
আমি যত দূর বুঝতে পারছি দোউখানু প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ভোজসভা থেকে উঠে আসেন নাই! আপনার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছি । অতিথিদের ছেড়ে আমি বেশিক্ষণ এখানে থাকতে পারব না।’
-‘আসুন আমরা একটু আয়্নার সামনে দাঁড়াই।’ মণ্ত্রির মুখে মিটি মিটি হাসি।
আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠলাম। আমার পাশে অবিকল আরেকজন আমি, শুধু শাড়ীর রঙটা আলাদা।
চোখে প্রশ্ন নিয়ে মণ্ত্রির দিকে তাকিয়ে আছি।
উনি ব্যাখ্যা দিলেন।
-‘আমরা দু জনই একই চেহারা ধারন করছি এবং আমাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবের চেহারাও এক। আমাদের মাঝে তফাৎ দুটো।
এক – আমাদের ডাইমেন্শন আলাদা।
দুই- আপনি মানুষ আর আমি পরী।’
-‘তার মানে আপনার কাছেও একজন ফৌজী আছে?’
মণ্ত্রি হেসে ফেললেন!
-‘না,আমি অবিবাহিতা। আপনার কোন ভয়ের কারণ নেই!
তবে আমি এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছি যে আমার কাছে কোনো আবিদ নেই!’
-‘আমি দুঃখ বোধ করছি! হয়ত আরেকটা ডাইমেনশনে আমরা জেলের ঘানি টানছি।’
হাহা করে হেসে উঠলেন মণ্ত্রি।
-‘এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমাদেরকে পাশা পাশি দেখে ফৌজি এবং অন্যরা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল কেন?’
মাথা নেড়ে সায় দিলাম আমি।
-‘আপনি অনুমতি দিলে, আপনার ভূমিকায় আমি আর আমার ভূমিকায় আপনি অভিনয় করে দেখতে পারি।
আবিদ ধরে ফেলবে জানি, কিন্তু ফৌজিকে নিয়ে একটু সন্দেহ আছে।’
-‘অনুমতি দিলাম।’
প্রাণ খুলে হেসে উঠলাম আমরা।

চলবে ……………সবগুলো পর্ব এখানে পাওয়া যাবে    

ম্যাগাজিন এ লিখতে  এখানে রেজিস্ট্রেশন করুন   

আরো গল্প  পড়তে  এখানে ক্লিক করুন 

Sponsored Ads

লাইক করুন , কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন ।

Facebook Comments

2019-02-12T09:21:25+00:00

About the Author:

Leave A Comment

Shares